ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন

2개월 전

ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের অবদান

পর্ক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০) পরমাণু সম্পর্কে প্রথমে ধারণা দেন। গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস (খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৭-২১২ ) লিভারের নীতি ও তরলে নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর ভেজাল নির্ণয়ে সক্ষম হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশল জানতেন। আলোক তত্ত্বের উপর ইবনে আল হাইথাম (৯৬৫-১০৩৯) এবং আল হাজেন (৯৬৫-১০৩৮) এর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। টলেমী (১২৭- ১৫১) ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কোন বস্তু দেখার জন্য চোখ নিজে আলোক রশ্মি পাঠায়। আল হাজেন এই মতের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে বস্তু থেকে চোখে আলো আসে বলেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। আতশি কাচ নিয়ে পরীক্ষা তাকে উত্তল লেন্সের আধুনিকতত্ত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে।


istockphoto-1211038898-640x640.jpg

আল মাসুদী (৮৯৬-৯৫৬) প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। এই বইয়ে বায়ুকলের উল্লেখ পাওয়া যায়। রজার বেকন (১২১৪-১২৯৪) পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবক্তা। তাঁর মতে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সব সত্য যাচাই করা উচিত।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি (১৪৫২-১৫১৯) পাখি ওড়া পর্যবেক্ষণ উড়োজাহাজের একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। তিনি মূলত চিত্রশিল্পী হলেও বলবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। ফলে তিনি বহু যন্ত্র দক্ষতার সাথে উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

ডা গিলবার্ট (১৫৪০-১৬০৩) চুম্বকত্ব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং তত্ত্ব প্রদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। জার্মানির স্নেল (১৫৯১-১৬২৬) আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন।

হাইগেন (১৬২৬-১৬৯৫) দোলকীয় গতি পর্যালোচনা করে ঘড়ির যান্ত্রিক কৌশলের বিকাশ ঘটান এবং আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
রবার্ট হুক (১৬৩৫-১৭০৩) পদার্থের স্থিতিস্থাপক ধর্মের অনুসন্ধান করেন। বিভিন্ন গ্যাসের ধর্ম বের করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান রবার্ট বয়েল (১৬২৭-১৬৯১)।
ভন গুয়েরিক (১৬০২-১৬৮৬) বায়ু পাম্প আবিষ্কার করেন। রোমার (১৬৪৪-১৭১০) বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাপ করেন।
কেপলার (১৫৭১-১৬৩০) কোপার্নিকাস যে সৌরকেন্দ্রিক তত্ত্বের ধারণা উপস্থিত করেন তাঁর গাণিতিক বর্ণনা দেন তিনটি সুত্রের সাহায্যে। কেপলার গ্রহদের প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দেন। গ্রহদের গতিপথ সম্পর্কে তাঁর গাণিতিক সূত্রগুলোর সত্যতা তিনি যাচাই করলেন টাইকোব্রাহের (১৫৪৬-১৬০১) পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যের দ্বারা।

ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশে ভারতীয় উপমহাদেশের অবদান:

→ মহাবীর ‘সিদ্ধান্ত’ নামক গ্রন্থে ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক কাজ তুলে ধরেন।
→ মহাবীর যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের কাজ ও শূন্যের ব্যবহার আলোচনা করেন।
→ আর্যভট্ট গাণিতিক প্রমাণের যোগফল পর্যালোচনা করেন এবং দ্বিঘাত সমীকরণ সমাধানের প্রচেষ্টা করেন।
→ দার্শনিক কনাদ পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু।
→ প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিদ ভাস্করাচার্য নির্ভুলভাবে পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয় করতে সমর্থ হন, যা ছিল ৭১৮২ মাইল।
→ ভাস্করাচার্য ২২/৭ কে T-এর মান হিসেবে প্রচার করেন।

পদার্থের ক্ষয়

মরিচাঃ মরিচা হল আয়রণ অক্সাইড। আর এটা তৈরি হয় পানি বা জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে। মরিচাঃ মরিচা হল আয়রণ অক্সাইড। আর এটা তৈরি হয় পানি বা জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে। ধাতুর ক্ষয় রোধ করার কয়েকটি উপায় হলো- গ্যালভানাইজিং, পেইন্টিং, ইলেকট্রোপ্লেটিং

লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আবরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। জিঙ্ক এর আবরণ লোহাকে বাতাসে অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে। পেইন্টিং বা রঙ করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়।

ইলেকট্রোপ্লেটিং ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার, সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। খাবারের কৌটা, সাইকেল এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়।

তাপ (pleat): তাপ এক প্রকার শক্তি যা ঠাণ্ডা বা গরমের অনুভূতি জাগায়। heal হস আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে (SI) তাপমাত্রার একক কেলভিন (K)। সিজিএস পদ্ধতিতে উষ্ণতার একক হলো ডিগ্রি সেলসিয়াস (C)। উদাহরণ: সেন্টিগ্রেড স্কেলে তাপমাত্রা 15° তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়। তাপ প্রয়োগে পদার্থের প্রসারণের ক্রম

image.png

প্রান্তির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous expansion of water)
তরল পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে তার আয়তন বাড়ে, তাপ অপসারণ করলে আয়তন কর্মে। কিন্তু ০° সে. তাপমাত্রার পানিকে উত্তপ্ত করলে এর আয়তন বাড়ে না বরং কমে। ৪° সে. তাপমাত্রা পর্যন্ত এরূপ ঘটে। ৪ ° সে. তাপমাত্রার পানিতে গরম বা ঠাণ্ডা যাই করা হোক না কেন তা প্রসারিত হয়। এটি তরল পদার্থের প্রসারণের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম। তাই পানির এ প্রলারণকে ব্যতিক্রমী প্রসারণ বলে। ৪° সেলসিয়াস উষ্ণতায় পানির ঘনত্ব তাই সবচেয় বেশি।

গলনাঙ্কর উপর চাপের প্রভাব (Effect of pressure on Melting point)
অধিকাংশ পদার্থের কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায় পক্ষান্তরে তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন কমে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা যায়। যেমন: বরফ (পানি), ঢালাই, লোহা, পিতল, বিসমাথ, অ্যান্টিমনি ইত্যাদি। কঠিন হতে তরলে রূপান্তরের সময় যেসব পদার্থের আয়তন বৃদ্ধি পায়, চাপ বাড়লে ঐ সকল পদার্থ গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। আর যেসব পদার্থ কঠিন হতে তরলে রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায়, চাপ বাড়ালে ঐ সকল পদার্থ গলনাঙ্ক কমে যায়।

তাপ সঞ্চালন (Transmission of Heat)
তাপ সঞ্চালন হল তাপের স্থান পরিবর্তন, যা সর্বদা উচ্চ তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থান হতে নিম্ন তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থানে প্রবাহিত হয়। তাপ তিন পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে।

তাপ ইঞ্জিন (Heat Engine)
যে যন্ত্র তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তাপ ইঞ্জিন বলে। যেমন: বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।

তাপধারণ ক্ষমতা (Heat Capacity) কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1k বাড়াতে যে তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বলে। তাপধারণ ক্ষমতার একক জুল/কেলভিন (JK-1)। তাপধারণ ক্ষমতা = ভর × আপেক্ষিক তাপ।

****

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
STEEMKR.COM IS SPONSORED BY
ADVERTISEMENT
Sort Order:  trending

মরিচা ধরার প্রক্রিয়াটি একটি অক্সিডেটিভ প্রতিক্রিয়া, একটি পূর্বশর্ত হল অক্সিজেনের উপস্থিতি, যাতে অক্সিজেন লোহাতে না পৌঁছায়, এর জন্য, একটি আবরণ ব্যবহার করা হয়