বাংলার ভাষা সৈনিক

2개월 전

১৯৫৪ সাল

৯ মে

পাকিস্তান গণপরিষদে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

১৯৫৬ সাল

১৬ ফেব্রুয়ারি

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের
মাধ্যমে অব্যাহত ভাষা আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে।


Statue_of_martyrs_of_Bengali_Language_movement_of_Barak_valley.jpg

২৯ ফেব্রুয়ারি

ফরিদপুরের আলাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী সাংবিধানিকভাবে (সংবিধানের ২১৪ নং অনুচ্ছেদ) বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৮৭ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস হয়।

বিভিন্ন সময়ে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ

নামতারিখআহ্বায়ক
১ম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ১ অক্টোবর, ১৯৪৭অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ (২য় বার)২ মার্চ, ১৯৪৮শামসুল হক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ১১ মার্চ, ১৯৫০আবদুল মতিন
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২কাজী গোলাম মাহবুব

ভাষা আন্দোলনে শহিদদের পরিচয় ও অবদান

নামপরিচয়জন্মস্থানবিশেষত্ব
রফিক উদ্দীন আহমেদতৎকালীন জগন্নাথ কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রপারিল, সিংগাইর, মানিকগঞ্জভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ (২১ ফেব্রুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভবনের নামকরণ করা হয়। আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে কবর দেওয়া হয়।
আবুল বরকতঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এমএ ছাত্রবাবলা ভরতপুর, মুর্শিদাবাদ, ভারতডাক নাম আবাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘর নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আবদুল জব্বারনিজ গ্রামে আনসার কমান্ডার হিসেবে কাজ করতেন।পাঁচুয়া, গফরগাঁও ময়মনসিংহঢাকা মেডিকেলের মিছিলে যোগ দেন।
আবদুস সালামডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগে , পিয়ন হিসেবে কাজ করতেন।লক্ষণপুর, দাগনভূঞা, ফেনী২১ ফেব্রুয়ারি আহত হলেও মারা যান ৭ এপ্রিল৷ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সালাম নগর রাখা হয়।
শফিউর রহমানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ও ঢাকা হাইকোর্টের হিসাবরক্ষণ শাখার কেরানি ছিলেন।কোন্নগর গ্রাম, হুগলি, ভারততাঁর পিতা মরহুম মাহবুবুর রহমান জাতীয় শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন। শফিউর রহমানের মৃত্যু: ২২ফেব্রুয়ারি।
আবদুল আউয়ালরিকশাচালকগেন্ডারিয়া, ঢাকা২৬ বছর বয়সে ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ শহিদ হন। মোটরগাড়ির চাপায় পড়ে মৃত্যু বরণ করেন।
ওয়াহিদুল্লাহলুৎফর রহমান লেন, ঢাকাতিনি ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।
মো. অহিউল্লাহশিশু শ্রমিকঅজ্ঞাতসবচেয়ে কম বয়সী ভাষা শহিদ (৯ বছর) । নবাবপুর এলাকায় বংশাল রোডের মাথায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
অজ্ঞাত বালকঅজ্ঞাতঅজ্ঞাতমিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য মিছিলের মধ্যখানে তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনী ট্রাক চালিয়ে দিলে এই অজ্ঞাতনামা বালকটি সঙ্গে সঙ্গে মারা যান।

এদের সবাইকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার ভাষা সৈনিকদের মধ্যে আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, আবদুস সালাম, আহমেদ, শফিউর রহমানকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেন।

ভাষা আন্দোলনে নারী

প্রথম নারী ভাষা সৈনিককমলা ভট্টাচার্য (১৯ মে, ১৯৬১ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে শহিদ হন)
১৯৪৮ সালে যশোর ভাষা সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কহামিদা রহমান
তমদ্দুন মজলিসে অবদান রাখা নারীরাহেলা বেগম ও রহিমা বেগম
১৪৪ ধারা ভঙ্গে অবদান রাখা নারীরওশন আরা বাচ্চু, মাহবুবা খাতুন ও আনোয়ারা খাতুন
নরায়ণগঞ্জ আন্দোলনে অগ্নিকন্যা ছিলেনমগনি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম

শহিদ মিনার

প্রথম
• ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। • ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি/৮ ফাল্গুন ছিলো বৃহস্পতিবার • ১০ ফুট উঁচু ও ছয় ফুট চওড়া বিশিষ্ট মিনারটির নকশাকার বদরুল আলম। • ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারটি উদ্বোধন করেন শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মাহবুবুর রহমান। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ শহিদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ পত্রিকার সম্পাদক জনাব আবুল কালাম শামসুদ্দিন। এই দিনেই পুলিশ শহিদ মিনারের শেষ চিহ্নটুকুও ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
দ্বিতীয়
• ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন – ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসনা বেগম। বর্তমান শহিদ মিনারের স্থপতি – হামিদুর রহমান। - ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী শহিদ মিনার ধ্বংস করে, ১৯৭৩ সালে সরকার এটি পুনরায় নির্মাণ করে।

★ বি. দ্র.: দেশের সর্বোচ্চ শহিদ মিনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় 'ব্রিটেনের ওল্ডহ্যাম শহরে।

****

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
STEEMKR.COM IS SPONSORED BY
ADVERTISEMENT