বাঙালীর ভাষা আন্দোলন

2개월 전

১৯৪৭ সাল

১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ‘তমদ্দুন মজলিশ' ( Tamuddun Majlish) নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলাকে চালু করার দাবি নিয়ে এগিয়ে আসে তমদ্দুন মজলিশ। তমদ্দুন মজলিশ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে। এ পুস্তিকার লেখক ছিলেন তিনজন- অধ্যাপক আবুল কাশেম, ড. কাজী মোতাহার হোসেন এবং আবুল মনসুর আহমদ।

১ অক্টোবর তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। যার আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।

১৯৪৮ সাল

৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সমগ্র পূর্ববাংলায় হরতাল পালিত হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন বসলে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম উর্দুর সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব রাখেন। সে সময়ের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন এই ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় তা অগ্রাহ্য হয়ে যায়। ফলে পূর্ব বাংলার ছাত্র শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী মহলে | অসন্তোষ দেখা দেয়।

২ মার্চ দেশের ছাত্রসমাজ বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে ২য় বারের মতো ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' | (All Parties State Language Movement Association) গঠিত হয়। যার আহ্বায়ক ছিলেন | শামসুল হক ও সভাপতিত্ব করেন কামরুদ্দিন আহম্মেদ।

১১ মার্চ সংগ্রাম পরিষদ রাষ্ট্রভাষার ক্ষেত্রে সরকারের ষড়যন্ত্র রোধ করার জন্য সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। ঐ দিন ঢাকায় বহুছাত্র আহত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুবসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাব অগ্রাহ্য হওয়ায় ১১ মার্চ ঢাকা শহরে ছাত্রসমাজ ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস' পালন করে যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়কাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল”।
২১ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ঘোষণা দেন, “উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।
২৪ মার্চ কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ একই কথার পুনরাবৃত্তি করলে উপস্থিত ছাত্ররা ‘না না’ বলে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
১৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকায় এসে বক্তৃতাকালে আবার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন। এতে ছাত্ররা প্রতিবাদ করে।


675px-Mother_language_day_celebration.jpeg

১৯৫২ সাল

২৬ জানুয়ারি নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগের ঢাকা অধিবেশনে এবং পল্টন ময়দানের জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা করেন যে, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'। এই ঘোষণার প্রতিবাদে ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় প্রতিবাদ দিবস পালিত হয়।

৩১ জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে সর্বদলীয় কর্মী সমাবেশে সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। যার আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব। এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ) প্রদেশব্যাপী রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৬ ফেব্রুয়ারি কারাগারে আটক অবস্থায় ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ ও ‘বন্দী মুক্তির’ দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদ আমরণ অনশন ধর্মঘট শুরু করেন।

২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্র আন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে নুরুল আমিন সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠকে ১৪৪ ধারা অমান্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সেদিন মিছিলে অংশ নেয়া রফিক উদ্দিন পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহিদ হন। তিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ। সেদিন পুলিশের গুলিতে ৮ জন শহিদ হন।
২২ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ শুরু হয় এবং পুনরায় পুলিশের গুলিতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহিদ হন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের শহিদ স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রঙ্গণে রাতারাতি ছাত্রদের দ্বারা গড়ে ওঠে শহিদ মিনার।
২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহাবুবুর রহমান।

২৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন ‘আজাদ’ পত্রিকার সম্পাদক জনাব আবুল কালাম শামসুদ্দীন। ঐদিনেই শহিদ মিনারটি অপরাহ্নে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়

  • পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ছিলেন মালিক গোলাম মোহাম্মদ।
  • পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন। (১৭ অক্টোবর, ১৯৫১ – ১৭ এপ্রিল, ১৯৫৩)
  • পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন।

****

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
STEEMKR.COM IS SPONSORED BY
ADVERTISEMENT