আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও স্থির-চল তড়িৎ

2개월 전

স্থির ও চল তড়িৎ

তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এক প্রকার শক্তি।তড়িৎ দুই প্রকার। ১)স্থির তড়িৎ ও ২)চল তড়িৎ

তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current) : কোন পরিবাহকের যে কোন প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয়, তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার (ampere)। যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে অ্যামিটার বলে।


cHJpdmF0ZS9sci9pbWFnZXMvd2Vic2l0ZS8yMDIyLTA1L2ZsMzcxMjM3ODg1Ni1pbWFnZS1reWJlaGVmYi5qcGc.webp

চল তড়িৎ দুই প্রকার। যথা : সমপ্রবাহ এবং পর্যাবৃত্ত প্রবাহ।

সমপ্রবাহ (Direct current or (D.C) : তড়িৎ প্রবাহ যদি সর্বদা একই দিকে প্রবাহিত হয় বা সময়ের সাথে তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না হয় তাহলে সেই প্রবাহকে সমপ্রবাহ বলে। যেমন, তড়িৎকোষ (ব্যাটারি) থেকে আমরা সমপ্রবাহ পাই।
পর্যাবৃত্ত প্রবাহ (Alternative current or A.C) : যে তড়িৎ প্রবাহ নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহের দিক পর্যাবৃত্তভাবে পরিবর্তিত হয় তাকে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ বলে। আমাদের দেশে বাসাবাড়িতে যে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ ব্যবহার করা হয় তা প্রতি সেকেন্ডে ৫০ (পঞ্চাশ) বার দিক পরিবর্তন করে।

পরিবাহক(Conductor)অন্তরক বা অপরিবাহক (Insulator)অর্ধপরিবাহী (Semiconductor)
(সকল/ধাতু) আর্দ্র বায়ু, পানি ও মাটি)(অধাতু, প্লাস্টিক, কাঠ, কাচ ও রাবার)(সিলিকন, জার্মেনিয়াম, ক্যাডমিয়াম সালফাইড)

তড়িৎ ক্ষমতা (Electrical Power) : তড়িৎ ক্ষমতার একক ওয়াট ((Watt)। তড়িৎ ক্ষমতাকে কিলোওয়াট এবং মেগাওয়াট এককেও প্রকাশ করা হয়। ১ কিলোয়াট = ১০০০ ওয়াট: ১ মেগাওয়াট = ১০০০০০ ওয়াট

→ বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক ‘কিলোওয়াট-ঘন্টা’ kwh
☐ UPS = Uninterruptible Power Supply

IPS = Instant Power System

ওহমের সূত্র: স্থির তাপমাত্রায় কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক এবং রেজিস্ট্যান্সের ব্যস্তানুপাতিক। V=IR

Rটাইপ ও N টাইপ অর্ধপরিবাহী

বিশুদ্ধ—সেমিকন্ডাকটর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম) চতুর্যোজী। এদেরকে পঞ্চযোজী কিংবা ত্রিযোজী পরমাণু দ্বারা "ডোপিং" করে সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা বৃদ্ধি করা হয়। (n টাইপ অর্ধপরিবাহীতে ডোপিং করা হয় পিঁঞ্চযোজী মৌল দ্বারা (যেমনঃ আর্সেনিক) টাইপ অর্ধপরিবাহীতে ডোপিং করা হয় ত্রিযোজী মৌল দ্বারা (যেমনঃ (বোরন)

অর্ধপরিবাহী (ডায়োড (SEMICONDUCTOR DIODE) একটি p টাইপ অর্ধপরিব্রাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। রেকটিফায়ার এসি (পরিবর্তী) প্রবাহকে ডিসি (একমুখী) প্রবাহে রূপান্তর করে।

(ক) সন্মুখী ঝোঁক (Forward Bias) অবস্থায় থাকলে p-n জংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলবে।(খ) বিমুখী ঝোঁক (Reverse Bias) অবস্থায় থাকলে p-n জংশন দিয়ে কোন তড়িৎ প্রবাহ চলে না।

ট্রানজিস্টর আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স জগতে বিপ্লব এনেছে। ১৯৪৮ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম আবিষ্কৃত হয়। কেলাসের প্রথমটিকে নিঃসারক (Emitter), মাঝেরটিকে পীঠ (Base) এবং অন্য পাশেরটিকে সংগ্রাহক (Collector) বলা হয়।

অ্যামপ্লিফায়ার (AMPLIFIER) যে ডিভাইসের সাহায্যে দুর্বল বা কম অ্যামপ্লিচিউডের সিগন্যালকে শক্তিশালী বা বড় অ্যামপ্লিচিউডের সিগন্যালে পরিণত করা যায়, তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে। কার্যক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তিন শ্রেণির অ্যামপ্লিফায়ার আছে। যথাঃ এ শ্রেণি, বি শ্রেণি এবং সি শ্রেণি।

সমন্বিত বর্তনী (INTEGRATED CIRCUIT OR I.C) আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি (Jack Kilby) নামক একজন বিজ্ঞানী Transistor. Registor এবং Capacitor সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা IC নামে পরিচিতি লাভ করে। আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায় – সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে কম্পিউটারের মূল্য এবং হিসাব-নিকাশের সময়।

আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি (Alpha, Beta and Gamma Ray) :

আলফা কণাঃ এই কণা ধনাত্মক আধানযুক্ত । আলফা কণার ভেদনক্ষমতা কম৷ এই কণা চৌম্বক এবং তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়। তীব্র আয়নায়ন সৃষ্টি করতে পারে । এর ভর হাইড্রোজেন পরমাণুর চারগুন। এই কণা জিংক সালফাইড পর্দায় প্রতিপ্রভা তৈরি করে। এর বেগ আলোর বেগের শতকরা ১০ ভাগ।

বিটা কণাঃ এই কণা ঋণাত্মক আধানযুক্ত। ভেদনক্ষমতা আলফা কণা থেকে বেশি এটি 3cm পুরু অ্যালুমিনিয়াম পাত ভেদ করে যেতে পারে না। এই কণা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। এর বেগ আলোর বেগের শতকরা ৫০ ভাগ থেকে শতকরা ৯৮ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে।

গামা রশ্মিঃ এটি আধান নিরপেক্ষ, স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। এটি চৌম্বক এবং তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয় না। দুর্বল আয়নায়ন ক্ষমতা সম্পন্ন কিন্তু ভেদনক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে বেশি। দ্রুতি আলোর সমান। টিউমার, ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

খনিজ (Minerals) ও আকরিক (Ore) ভূ-গর্ভে বা ভূ-পৃষ্ঠে কোনো কোনো শিলাস্তুপে প্রচুর পরিমাণে যৌগ অথবা মুক্ত মৌল হিসেবে মূল্যবান ধাতু অথবা অধাতু পাওয়া যায়, এগুলোকে খনিজ বলে। যেমন- লোহা, সোনা, রূপা, তামা ইত্যাদি খনিজ পদার্থ।

খনিজ ও এর উৎস

মৌলের নামআকরিক
সোডিয়ামরকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স
ক্যালসিয়ামচুনাপাথর (CaCO3), জিপসাম (CaSO4.2H2O), ডলোমাইট
আয়রনম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট
অ্যালুমিনিয়ামবক্সাইট (Al2O3.2H2O), কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট
লেডগ্যালেনা বা লেড সালফাইড (Pbs)
কপারকপার পাইরাইটস
পটাশিয়ামসল্টপিটার (KNO3)
জিংকজিংক ব্লেন্ড বা জিংক সালফাইড, (ZnS)
ম্যাগনেশিয়ামঅ্যাসবেস্টস, Mg3Ca(SiO3) 4, ইপসম লবণ, MgSO4.7H2O

****

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
STEEMKR.COM IS SPONSORED BY
ADVERTISEMENT