# কান্তজীর মন্দিরে একদিন (10% beneficiaries for @shy-fox)

지난달

IMG-20210908-WA0008.jpg

what3words

বাংলাদেশে যতগুলো প্রাচীন মন্দির রয়েছে তার মধ্যে কান্তজীর মন্দির অন্যতম। এটি এমন একটি মন্দির যার গায়ে লেখা আছে পূরান,রামায়ণ ও মহাভারত এর মতো কাহিনী। পোড়া মাটির ফলক, বিভিন্ন দেব-দেবীদের খোদায় করা হাজারো ছবি যা আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে রীতিমতো গবেষণায় ফেলবে আপনাকে। কান্তজীর মন্দিকে কৃষ্ণ মন্দির হিসাবেই ডাকা হয়।

received_1801785433346656.jpeg
what3words

করোনাকালীন সময়ে তেমন কোথাও ঘোরাঘুরি করা হয়নি। কয়দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে তারপর চাইলেওআর ঘুরতে পারব না। তাই ভাবলাম নানু বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। আমার নানু বাড়ি দিনাজপুর শহর। ছোট থাকতে একবার যাওয়া হয়েছিল মন্দিরে। কিন্তু আজ গেলাম একটা উদ্দেশ্য নিয়ে যে আপনাদের মাঝে তুলে ধরব এই মন্দিরের ইতিহাস। রাতেই ঠিক কাজিরদের বলে রেখেছি কাল কিন্তু মন্দিরে যাব। তাই সকালে ঊঠে ওদের অনিহা শর্তেও জোর করে ঘুম থেকে তুলে সকালের নাস্তা করে বের হয়ে পড়লাম। সকালে যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে রোদ কম লাগবে আর লোকজনের ভীর কম হবে। নানু বাড়ি থেকে একটি অটো বাইক নিয়ে রওনা দিলাম ১ ৫০ মিনিটের মতো লাগল।

received_910792789512195.jpeg

what3words

আজ আমি খুব উল্লাসিত যে এই বিষয়টি নিয়ে আপনাদের মাঝে অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌছে প্রথমে কয়টি ছবি তুলে নিলাম। মন্দিরের চতুর পাশে গবেষক মনে পর্যবেক্ষণ করে যা দেখলাম তাতে আমি বিষ্মৃত।কারণ মন্দিরের দেয়ালে এতো নিপুণ ভাবে কারুকাজ করা আছে আপনি সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন না যে সেই সময়ের লোকজন কতটা রুচিশীল ছিল। তাদের হাত কতটা দক্ষ ছিল। কতটা দক্ষ হলে পোড়া মাটির ফলক দিয়ে বিশাল এই দেয়াল গুলো সাজানো যায়। এই মন্দিরের বিশেষত্ব আসলে এই কারুকার্য, এর নিপুণতা ও এর দেয়ালের লেখা ও দেবতাদের খোদায় করার সৌন্দর্য। শেষেপর্যায়ে এক বয়োজ্যেষ্ঠ দাদুকে দেখলাম বসে আছে মন্দিরের এক কোনায়। ভাবলাম এনার থেকে অনেক কিছু জানা যাবে উৎসাহের সহিত অভিবাদন করে বললাম দাদু কেমন আছেন? হাসিমাখা মুখে উত্তর করল ভালো আছি মা। বললাম সকালে কিছু খাইছেন। উত্তর হা। বললাম দাদু আপনি এখানে কত বছর ধরে আছেন? উনি বলল সে ভালোই হবে। তারপর আমি ওনার কাছে থেকে এখানকার বিভিন্ন দেব-দেবীর গল্প, প্রতিদিন কত মানুষ এখানে আসে, করোনাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা সহ সব কিছু শুনলাম। ওনার একটায় কথা আমি এই মন্দিরকে রেখে বাড়িতে থাকতে পারিনা। আমি যেন এখানেই মরে যাই।

received_604554937377301.jpeg
what3words

কান্তজীর মন্দিরের অবস্থান

দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে, দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেঁপা নদীর তীরবর্তী গ্রাম কান্তনগরে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দির।

উইকিপিডিয়া

কান্তজীর মন্দিরের ইতিহাস

IMG-20210908-WA0002.jpg

what3words

মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপি থেকে জানা যায়, তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা জমিদার প্রাণনাথ রায় তার শেষ বয়সে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে তার মৃত্যুর পরে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার পোষ্যপুত্র মহারাজা রামনাথ রায় ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। শুরুতে মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা ছিলো ৭০ ফুট। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মন্দিরটি ভূমিকম্পের কবলে পড়লে এর চূড়াগুলো ভেঙে যায়। মহারাজা গিরিজানাথ মন্দিরের ব্যাপক সংস্কার করলেও মন্দিরের চূড়াগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

উইকিপিডিয়া

মন্দিরের স্থাপত্য

received_199843725416329.jpeg

what3words

মন্দিরের বাইরের দেয়াল জুড়ে পোড়ামাটির ফলকে লেখা রয়েছে রামায়ণ, মহাভারত এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী। পুরো মন্দিরে প্রায় ১৫,০০০-এর মতো টেরাকোটা টালি রয়েছে।উপরের দিকে তিন ধাপে উঠে গেছে মন্দিরটি। মন্দিরের চারদিকের সবগুলো খিলান দিয়েই ভেতরের দেবমূর্তি দেখা যায়। মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও, পাথরের ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো ৫০ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি বর্গাকার। নিচতলার সব প্রবেশপথে বহু খাঁজযুক্ত খিলান রয়েছে। দুটো ইটের স্তম্ভ দিয়ে খিলানগুলো আলাদা করা হয়েছে, স্তম্ভ দুটো খুবই সুন্দর এবং সমৃদ্ধ অলংকরণযুক্ত। মন্দিরের পশ্চিম দিকের দ্বিতীয় বারান্দা থেকে সিঁড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে। মন্দিরের নিচতলায় ২১টি এবং দ্বিতীয় তলায় ২৭টি দরজা-খিলান রয়েছে, তবে তৃতীয় তলায় রয়েছে মাত্র ৩টি করে।
উইকিপিডিয়া

IMG-20210908-WA0003.jpg
what3words

কান্তজীর মন্দির বাংলাদেশ ও পুরো ভারতবর্ষের প্রাচীন মন্দিন গুলোর মধ্যে অন্যতম কারুকার্য খচিত একটি মন্দির। প্রতিটি ভাজে ভাজে রয়েছে দেব-দেবীর খোদায় করা ভাস্কার্য। ইতিহাস জানা,ছুটির দিনে হ্যাং আউটের জন্য সুন্দর একটি জায়গা।

লোকেশনকান্তজীর মন্দি, দিনাজপুর
ক্যামেরাRedmi note 8 pro
ছবিAbida Tasnim Ora

ধন্যবাদ সবাইকে মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
STEEMKR.COM IS SPONSORED BY
ADVERTISEMENT
Sort Order:  trending

কেউ এই মন্দিরের নাম কান্তজিউ বলে আবার কেউ বলে কান্তজীর। যেটাই হোক না কেন, আপনার ফটোগ্রাফি ও এর সম্পর্কিত ইতিহাসগুলো ভালো ভাবে তুলে ধরেছেন। এর জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

·

ধন্যবাদ আপনাকে

আমি অনেক ছোটবেলা কান্তজীর মন্দির গিয়েছিলাম। আপনার পোস্ট থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম। অনেক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখেছেন৷ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি এবং কান্তজীর মন্দিরের অসাধারণ বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন।এটা এমন একটি জায়গা যা আমরা আমাদের পাঠ্য বইতে পড়েছিলাম।অনেক সুন্দর লিখেছেন আপনি।শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।

·

ধন্যবাদ ভাইয়া

কান্তজীর মন্দিরের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের।এটি দেশের প্রধান ঐতিহ্য গুলোর মধ্যে অন্যতম।ধন্যবাদ আপনার।

·

ধন্যবাদ আপনাকে

মন্দিরটি খুবই সুন্দর ।মন্দিরের গায়ের নিদর্শনগুলো দেখে ভালো লাগলো।বহু পুরাতন ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ আপু।

·

আপনাকেউ ধন্যবাদ

কান্তজিউ হলেন ভগবান কৃষ্ণের আরেক নাম। মন্দিরের টেরাকোটার কাজ এখন বেশ স্পষ্ট। খুবই ভালো লাগলো। ঘরে বসে কান্তজিউ দর্শন হবে ভাবিনি। ধন্যবাদ দিদি ❤️🤗

·

ধন্যবাদ আপনাকে

কান্তজীর মন্দির নামটা অনেক শুনেছি কিন্তু কখনো সরাসরি দেখি নাই। খুব সুন্দর লিখেছেন আপু। আপনি এই পুরানো স্থাপত্য সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছেন। এবং কোথায় অবস্থিত সব কিছু দিয়ে দিয়েছেন। খুব সুন্দর তথ‍্যবহুল পোস্ট। আপনার জন্য শুভকামনা।।

·

ধন্যবাদ ভাইয়া। যাবেন অনেক ভালো লাগবে

আপনার এই পোস্টের মধ্যে এই পুরাতন মন্দির সম্পর্কে জানতে পারলাম।এর ইতিহাস ও পোড়ামাটির শিল্প নিদর্শন সত্যি অসাধারন।ইচ্ছে রইলো একবার যাওয়ার।

·

ভাইয়া অবশ্যই আসবেন অনক ভালো লাগবে।