প্রসঙ্গ : অবশেষে বাসায় শান্তির টানে ||আমার বাংলা ব্লগ ||10% Beneficiary to shy-fox

2개월 전
24 November,2021

হ্যালো বন্ধুরা,

আজকে মনের মধ্যে একটু শান্তি কাজ করতেছিল। কারণ আজকে আমি বাসায় যাব। দীর্ঘ অনেকদিন হলো মেচে আছি। ম্যাচ লাইফটা যেন একটা বোরিং অনুভূতি কাজ করতে ছিল। সকাল থেকেই একটু ব্যস্ত ছিলাম। সকালে দশটা থেকে আমার পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ এই বিকেল বেলা বাসার জন্য রওনা দিব। এর কারণে মনের মধ্যে অনেক শান্তি কাজ করতেছিল অনেকদিন বাসার সুন্দর পরিবেশ অনুভব করি নাই। মেচে থাকতে থাকতে কেমন যেন লাগছিল। কারণ দীর্ঘদিন বাসায় থাকা হয়নি। বাসা থেকেই মাঝে মাঝে দাদা ফোন দিয়ে বলে। যে একটু সময় করে বাসায় এসে ঘুরে যা তোর দাদী তোর জন্য অনেক আশা নিয়ে বসে থাকে যে কবে তুই আসবি বাসায়। তোর মুখটা দেখার জন্য। আমারও বাসায় আসতে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু পড়াশোনার চাপ এবং সামনে পরীক্ষা সব মিলিয়ে বাসায় আসা হয়নি। দীর্ঘ দুই মাস হয়ে গেল।

সকালে দাদাকে ফোন দিয়ে বললাম দাদা আমি বাসায় আসছি। দাদা সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা দাদিকে দিয়ে দিল। দাদি বলল কখন আসবি বাবা তোর মুখটা কতদিন দেখিনি। আমিও খুব মনে মনে আশা করে ছিলাম। কারন আমার বাবা মা নেই। আমার দাদা-দাদির যেন আমার সব। বললাম দাদি আজকে পরীক্ষা শেষ আসছি আমি। দাদি বলল তারাতারি আই অপেক্ষা করবো তোর জন্য। আমার দুপুরবেলা যাওয়ার কথা ছিল। আমার ম্যাচের বড় ভাইদের জন্য একটু দেরি হয়ে গেল তাদের পরীক্ষা শেষ হতে একটু লেট হয়েছে। এর মধ্যে দাদি আমাকে চার-পাঁচবার কল দিয়ে অস্থির করে ফেলেছে যে কখন আসছিস বাবা তুই। আমিও বললাম আসছি দাদি ম্যাচের দুটো বড় ভাই আসলে এক সঙ্গে একসাথে যাবো তো বিকেলে রওনা দিব। দাদি বল তাড়াতাড়ি আয় বাবা।

IMG_20211123_165627.jpg

তারপর দুপুরবেলা খাওয়া-দাওয়া করলাম। তিনটার দিকে বড় ভাই গুলো আসলো। বেশি দেরি না করে বললাম চলো ভাই বাসার দিকে রওনা দিই। তারাও বেশি দেরী করলো না রওনা দিয়ে দিলাম আমরা। অটো নিয়ে সোজা বাস টার্মিনালে চলে আসলাম। বাসে যাবো বলে।

IMG_20211123_170420.jpg

তারপর বাসে উঠলাম। বাসে উঠতে না উঠতেই আবার দাদির কল আসলো। যে কিরে তুই এখনো রওনা দিস নি আসবি কখন। দাদিকে বললাম এই তো দাদী আর এক ঘন্টার মত লাগবে আসছি আমি আসলেই দেখা হবে। এই বলে রওনা দিলাম আমি। আমাদের একটু দেরি হয়ে গেল অনেক জ্যাম এর কারণে।

IMG_20211123_182747.jpg

আমার পৌঁছতে পৌঁছতে দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেল। আবার দাদির কল এলো যে বাবা আসিস নি এখনো তুই। আমি বললাম দাদি এইতো টার্মিনালে আর দশ মিনিট লাগবে ভ্যানে চড়ে চলে আসব। আমার সাথে যে ভাই গুলো ছিল সেই ভাইদের বাসা আবার উল্টোদিকে। তাদের সাথে কথা বলে তাদেরকে বিদায় দিয়ে দিলাম।

IMG_20211123_183131.jpg

সত্যি বলতে আমারও আর সহ্য হচ্ছিল না কারন অনেকদিন পর তাদের মুখটা দেখব। তারপর একটা ভ্যান নিয়ে রওনা দিলাম বাসার দিকে।

IMG_20211123_183238.jpg

স্টেশনের কাছে আসতে আসতেই দুইটা বড় ভাইয়ের সাথে দেখা হল। তারা বলল কিরে আশিক এতদিন পর আসলি। আমিও বললাম জ্বী ভাই পরীক্ষা চলছিল তো একটু চাপে ছিলাম পড়াশোনা তাই আসতে পারিনি। ভাই দুটো বলল তোর দাদা দাদি সারাদিন তোর কথাই জিজ্ঞেস করে রে। আমিও বললাম তাদের মুখে হাসি দেখার জন্য চলে আসলাম। এইভাবে ভাই দের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আরো 10 মিনিট দেরি হয়ে গেল। বললাম ভাইয়া এবার আমি আসি দেরি হয়ে যাচ্ছে। তাই বলে চলে আসলাম বাসায়।

বাসায় এসে গেট খুলেই দাদি জড়িয়ে ধরে বলল মুখ চোখ এত শুকিয়ে গেছে কেন রে খাওয়া-দাওয়া করিস না। বললাম কিছুই হয়নি আমার দাদি এমনি একটু পড়াশোনার চাপে ছিলাম তো তাই আরকি মুখটুকু একটু শুকিয়ে গেছে। এই বলে দাদু বলল যা হাতমুখ ধুয়ে নে। একসাথে খেতে বসব। তোর দাদি তোর জন্য দুপুর থেকে না খেয়ে বসে আছে তোর সাথে খাবে বলে। আমি দাদাকে বললাম কি করছো দাদি তুমি আমিতো তোমাকে বললাম আমার আসতে সন্ধ্যে হবে তোমরা দুপুরে খেয়ে নিয়ো। দাদি বলল নারে বাবা কিছু হবে না যা হাতমুখ ধুয়ে নে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করি। তারপর হাত মুখ ধুয়ে একটু ফ্রেশ হলাম। তারপর খেতে বসে দেখি অনেক কিছু রান্না করেছে আমার জন্য। আমি জেনো শ্বশুর বাড়িতে খেতে এসেছি। মাছ,মুরগির মাংস, ছোট মাছ সবকিছু একসঙ্গে রান্না করেছে তবে সবগুলোই আমার প্রিয় খাবার ছিল। এর মধ্যে বেশি প্রিয় ছিল মুরগির মাংস আমার বেশ ভালো লাগে। তারপর খেতে খেতে দাদা দাদি সঙ্গে একটু গল্প করলাম। আমি দাদা-দাদির সাথে একটু বেশিই ফ্রী কারণ তারাই আমার সব। অবশেষে খাওয়া শেষ হল। তারপর তারা তাদের রুমে বসে তিনজন মিলে অনেক গল্প করলাম। দাদি ইয়ার্কি করে বলল তুই তো অনেক বড় হয়ে গেছিস রে তোর তো বিয়ে দেওয়া দরকার। আমি বললাম দাদি এখনো তো কিছুই কামাই করি না বিয়ে করলে কি তুমি খাওয়াবা তোমার বৌমাকে। এভাবে ইয়ার্কি ঠাট্টা করতে করতে রাত অনিক হয়ে গেল। দাদি বলল যা ঘুমিয়ে পড় সারা দিন অনেক ধকল গেছে। আমারও একটু ক্লান্ত লাগছিল। আমিও দাদা-দাদীকে বললাম আচ্ছা আমি গিয়ে ঘুমায় তোমরা শুয়ে পড়ো।

IMG_20211124_235807.jpg

এই ছিল আজকে আমার বাসায় ফেরার গল্প। অনেকদিন পর বাসায় এসে অনেক ভালো লাগছে। বাসার মতো শান্তি যেন ম্যাচে আর পাওয়া যায় না। ম্যাস লাইফটা বন্ধুদের সাথে একটু ঘুরাঘুরি বেশি হলেও দিনশেষে বোরিং লাগে খুব। বাসায় এসে অনেক ভালো লাগলো। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো আমি বাসায় ঢোকার সময় দাদা-দাদির মুখের হাসিটা। এই হাসিটা যেন আমি জিবনেও টাকা দিয়ে কিনতে পারব না।

তো বন্ধুরা এই ছিল আজকে আমার দিনের একটা খুশির সময় যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আমি আশিক। বাংলাদেশ থেকে - সকলকে জানাই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটি সকল ভাই ও বোনেরা এবং এই কমিউনিটির সকল মডারেটর এবং ফাউন্ডার। আশা করি আপনারা সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক ভালো আছি আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর রহমতে। যে যেখানেই আছেন ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে,


আমার বাংলা ব্লগ ফ্যান🥰

আমি কে


IMG_0028 (1)-01.jpeg

আমি মো: আশিকুজ্জামান আশিক।বাংলাদেশ থেকে। আমি একজন ছাত্র। দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া করি।আমি সব সময় কথায় না কাজে বিশ্বাস করি।আর আমি স্বাধীন প্রিয় মানুষ।মনের বিরূদ্ধে কোনো কাজ করি না।নতুন নতুন বিষয় জানতে ও শিখতে খুব আগ্রহী আর নতুন কোন কিছু শিখতে পারলে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।আমার সখ বই পড়া,গান শুনা এবং ঘোরাঘুরি যা আমার বেশ ভালো লাগে।

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
STEEMKR.COM IS SPONSORED BY
ADVERTISEMENT
Sort Order:  trending

যারা দীর্ঘদিন বাসার বাইরে থাকে তারাই জানে যে বাসায় ফেরার কি আনন্দ। আপনি অনেক দিন পর বাসায় ফিরেছেন এটি আপনার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আর প্রিয়জনেরা বাসায় ফিরলে বাসায় একটু স্পেশাল রান্না হয়। খুব ভালো লাগলো আপনি অনেকদিন পর আপনার বাসার পরিবেশে ফিরতে পেরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার আনন্দের মুহূর্ত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য।

·

জি আপু বাসায় ফেরার মজাটাই অন্যরকম যদি তা হয় দীর্ঘদিন পরে। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

আসলে আমরা যারা বাসার বাইরে থাকি অর্থাৎ পড়াশোনা করার জন্য মেসে বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি তারাই বুঝি ও যারা বাইরে থাকেন তারাও বোঝে যে বাসায় যাওয়ার আনন্দ কতটা। উপভোগ করুন পরিবারের সকলের সাথে

·

ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। আর সত্যিই পরিবারের সাথে সময় কাটানো অনেক আনন্দ।