আমার প্রিয় লেখক - হুমায়ূন আহমেদ।

23일 전

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
কেমন আছেন @steem-bangladesh এর বন্ধুরা? আজ আমি টপ পোস্ট টপিক আমার প্রিয় লেখক এ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশের লাখো তরুন-তরুনীর মত আমারও প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। আমি জানিনা আজকে কতজন তাকে নিয়ে পোস্ট দেবে। কিন্তু আমি আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়েই লিখতে চাই।

IMG_20210412_225606.jpg

জন্ম

13 নভেম্বর 1948 শনিবার রাত পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমান আহমেদ এর স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ এর কোলজুড়ে এলো এক ফুটফুটে সন্তান। তার নাম রাখা হলো শামসুর রহমান, ডাক নাম কাজল। সাধারণত বাংলাদেশি মানুষের পুত্র সন্তান হলে সবাই প্রচন্ড খুশি হয়।কিন্তু ফয়জুর রহমান আহমেদ মোটেই খুশি হলেন না পুত্র হওয়ার সংবাদে। তিনি একটি মেয়ের আশা করেছিলেন এবং সেই মেয়ের জন্য অনেক কেনাকাটাও করে রেখেছিলেন। ছোটবেলায় হুমায়ূন আহমেদকে বেশ কিছুদিন সেই মেয়েদের জামাকাপড় পড়েই কাটাতে হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের জন্মের কিছুদিন পরে তার মা প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। হুমায়ূন আহমেদকে পাঠিয়ে দেয়া হয় তার নানীর কাছে। সেখানে তিনি দু বছর বয়স পর্যন্ত থাকেন। বাবা মার প্রথম সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই হুমায়ূন আহমেদ অনেক আদরে বড় হচ্ছিল।

ছেলেবেলা

ছোটবেলা থেকেই হুমায়ূন আহমেদ স্বাধীনচেতা ধরনের ছিলেন। কোন নিয়মের বেড়াজালে বন্দী থাকতে চাইতেন না। আর দশটা ছেলে মেয়ের মত হুমায়ূন আহমেদের ও পড়ালেখার প্রতি খুব একটা ঝোক ছিল না। তার প্রতিভা প্রথম বিকশিত হয় একটা মজার ঘটনার মাধ্যমে। হুমায়ূন আহমেদ তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ে । তার এক বন্ধু ছিল যাকে তারা মাথামোটা শংকর নামে ডাকতো। শঙ্করের মা তাকে বলল যদি সে ক্লাস থ্রি থেকে পাস করে ফোরে উঠতে পারে তাহলে তাকে একটা ফুটবল কিনে দেয়া হবে। হুমায়ূন আহমেদের তখন খুব শখ একটা চামড়ার ফুটবলের। শংকর ছিল ছাত্র হিসেবে খুবই খারাপ। সে হুমায়ুন আহমেদের কাছে আসলো পরামর্শ করার জন্য কি করা যায়। হুমায়ূন আহমেদ তাকে পড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে নিল। একই ক্লাসে পড়া সত্বেও হুমায়ূন আহমেদ তার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলো। ছাত্রকে পড়াতে গেলে শিক্ষকদের নিজেকেও জানতে হবে। সেজন্য হুমায়ূন আহমেদ নিজেও মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতে লাগলো। পরীক্ষার ফলাফলের সময় দেখা গেল স্কুলের সবাইকে হতবাক করে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ প্রথম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার ছাত্র শংকর ফেল করেছে। হুমায়ূন আহমেদে রিপোর্ট কার্ড হাতে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসলো। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে হুমায়ূন আহমেদ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছে।

শিক্ষাজীবন

হুমায়ূন আহমেদ বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তারপর ঢাকা ভার্সিটি থেকে কেমিস্ট্রিতে অনার্স মাস্টার্স করেন। তারপর কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাও করেন। তারপর তিনি স্কলারশিপ নিয়ে চলে যান আমেরিকায়। সেখানে নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার কেমিস্ট্রি তে পিএইচডি করেন। পিএইচডি শেষ করার পরে লোভনীয় চাকরির অফার থাকা সত্ত্বেও দেশের টানে তিনি দেশে ফিরে আসেন দেশে ফিরে এসে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এ যোগদান করেন।

লেখক জীবন

IMG_20210412_225626.jpg

হুমায়ূন আহমেদ প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকের রচনা করেন 1971 সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়। তখন তিনি ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। যেটা পরে 1972 সালে প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফার সহায়তায় প্রকাশিত হয়।তার দ্বিতীয় উপন্যাস ছিল শঙ্খনীল কারাগার। তাঁর উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয় ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখ দুঃখের গল্প। তিনি হিমু মিসির আলি নামের কিছু রহস্যময় চরিত্র নিয়েও লিখেছেন। যেগুলো বাংলাদেশ এখনো প্রচন্ড জনপ্রিয়। হুমায়ূন আহমেদকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী একজন সাহিত্যিক যিনি বাংলাদেশি পাঠকদেরকে কলকাতা থেকে ঢাকামুখী করেছেন। তার লেখা গল্প উপন্যাস সব সময় বাংলাদেশের তরুন তরুনীদের প্রচন্ডভাবে আকর্ষণ করতো। তাঁর আরও একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে শুভ্র নামের চরিত্র। তিনি আত্মজীবনীও লিখেছেন। তার আত্মজীবনীমূলক লেখাগুলো হচ্ছে আমার ছেলেবেলা, বল পয়েন্ট, ফাউন্টেন পেন, হিজিবিজি, হোটেল গ্রেভার ইন, মে ফ্লাওয়ার, কাঠপেন্সিল, লীলাবতীর মৃত্যু , নিউ ইয়র্কের আকাশে নীল ঝকঝকে রোদ এবং রং পেন্সিল। এর প্রত্যেকটি পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে আছে। তার উপন্যাস গৌরীপুর জংশন' নয়টা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার বেশিরভাগ গল্প-উপন্যাস প্রচন্ড পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের কে তিনি জোছনা ভালবাসতে শিখিয়েছেন, বৃষ্টি ভালবাসতে শিখিয়েছেন, হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে খালি পায়ে হাঁটতে শিখিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কিছু বইয়ের নাম উল্লেখ করছি অপেক্ষা, মেঘ বলেছে যাব যাব, হিমু, নি, তেতুল বনে জোছনা, আমার আছে জল, অয়োময়, দারুচিনি দ্বীপ, তেতুল বনে জোছনা, আসমানীরা তিন বোন, দাঁড় কাকের সংসার, ইরিনা, রুপা, মিসির আলি, দুই দুয়ারি, কিছুক্ষন, ছায়াবীথিএবং বৃহন্নলা। আরো অনেক গল্প উপন্যাস তিনি রচনা করেছেন। একুশে বইমেলায় হুমায়ুন আহমেদের বই সব সময় বেস্টসেলার হত।

সঙ্গীত অঙ্গনে হুমায়ুন আহমেদের পদচারণা

তিনি প্রায় চল্লিশটি সঙ্গীত রচনা করেছেন। যেগুলো তিনি তার বিভিন্ন চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন নাটকে ব্যবহার করেছেন। তাঁর রচিত সংগীতের ধারা মূলত বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের উপর ভিত্তি করে। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সঙ্গীত সমূহ হচ্ছে লিলাবালি লিলাবালি, একটা ছিল সোনার কন্যা চাঁদনী, পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়, ও আমার উরাল পংখিরে, যদি মন কাঁদে, চাঁদনী পসর রাইতে কে আমায় স্মরণ করে, আমি আজ ভেজাবো চোখ সমুদ্র জলে, চলো না বৃষ্টিতে ভিজি, হাবলংগের বাজারে গিয়া, কন্যা নাচিলো রে এবং আরো কিছু গান। তাঁর রচিত বেশিরভাগ সংগীত ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

টেলিভিশন অঙ্গনে তার পদচারণা

হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন পরশ পাথর। যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। একজন নাট্যকার, পরিচালক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহণ করেছেন। হুমায়ূন আহমেদের প্রথম টেলিভিশন নাটক হচ্ছে প্রথম প্রহর যা 1983 সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। নাটকের পরিচালক ছিলেন নওয়াজিশ আলী খান। তার প্রথম ধারাবাহিক নাটক হচ্ছে এইসব দিনরাত্রি। তার উল্লেখযোগ্য নাটক সমূহ হচ্ছে বহুব্রীহি, নক্ষত্রের রাত, আজ রবিবার, হাবলংগের বাজার, উড়ে যায় বকপক্ষী, নিমফুল, তারা তিনজন আরো অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক তিনি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু তার সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক যে নাটকটি সম্ভবত বাংলাদেশের টেলিভিশন জগতের সবচাইতে জনপ্রিয় নাটক সেটি হচ্ছে কোথাও কেউ নেই।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার পদচারণা

IMG_20210413_090109.jpg

চলচ্চিত্রাঙ্গনেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন চরম সফল একজন ব্যক্তি। তার সব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে তার গল্প উপন্যাস এর উপর ভিত্তি করে। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র। যা 1994 সালে নির্মাণ করা হয়। প্রথম ছবিতেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র সমূহ হচ্ছে দুই দুয়ারী, দারুচিনি দ্বীপ, শ্যামলছায়া, ঘেটুপূত্র কমলা, নম্বর বিপদ সংকেত, শঙ্খনীল কারাগার ইত্যাদি। ঘেটুপুত্র কমলা' এবং শ্যামলছায়া এই দুটি চলচ্চিত্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে পাঠানো হয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবন

হুমায়ূন আহমেদ 1976 সালে গুলতেকিন খানকে বিয়ে করেন। তাদের চার সন্তান রয়েছে। বিপাশা, শিলা, নোভা এবং নুহাশ হুমায়ূন। 2003 সালে গুলতেকিন খান কে ডিভোর্স দেন। 2004 সালে তিনি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। তাদের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে নিষাদ ও নিনিত।

নুহাশ পল্লী

হুমায়ূন আহমেদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে রেখেছে নুহাশপল্লী। 1987 সালে গাজীপুরের পিরুজালীতে 40 বিঘা জমির উপরে তিনি তিলে তিলে গড়ে তোলেন এই নন্দনকানন। তিনি তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় এখানে অতিবাহিত করেছেন। তার অনেক নাটক সিনেমার শুটিং হয়েছে এই নুহাশপল্লীতে। এটিকে তিনি তার ছেলে নুহাশ হুমায়ূনের নাম অনুসারে নাম দিয়েছিলেন নুহাশ পল্লী। আমি নুহাশপল্লীতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। জায়গাটি আসলেই চমৎকার। হুমায়ুন তার মনের মাধুরী মিশিয়ে এ জায়গাটিকে সাজিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার সমূহ

তিনি তার জীবনের প্রথম পুরস্কার পান
লেখক শিবির পুরস্কার 1973
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার 1981
তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন(1994/2007/2012). এছাড়াও আরও অনেক পুরস্কার তিনি পেয়েছেন।

মৃত্যু

হুমায়ূন আহমেদ খুব একটা স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন না সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল কয়েক বছর পরে একটি রুটিন চেকআপ এর সময় তার কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে। 2011 এর 14 সেপ্টেম্বর তিনি মেমোরিয়াল স্কোন ক্যাটারিং ক্যান্সার ইনস্টিটিউট নিউইয়র্ক এ যান তার চিকিৎসার জন্য। 2012 এর জানুয়ারিতে হুমায়ূন আহমেদকে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।2012 এর 12 ই মে হুমায়ূন আহমেদ দুই সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে আসেন। 19 জুলাই 2012 বাংলাদেশ সময় রাত 11 টা 20 মিনিটে হুমায়ূন আহমেদ নিউইয়র্কে মারা যান। তাকে কোথায় সমাহিত করা হবে এই নিয়ে পরিবারের মধ্যে একটা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু শেষ অবধি তাকে তার প্রিয় নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয়। সেখানে সাদা টাইলসে আবৃত কবরে তিনি শুয়ে আছেন। যখনই হুমায়ূন আহমেদের কথা মনে পড়ে তখনই তার একটা গানের কথা মনে পড়ে যায় "যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো"।

তাঁর উপন্যাসের কিছু অংশ

মাজেদা খালাকে আপনাদের মনে আছে তো? কঠিন মহিলা। ইংরেজিতে এইধরনের মহিলাকে বলা হয় হার্ড নাট, কঠিন বাদাম। কঠিন বাদাম জাতীয় মহিলাদের মাথায় কোন কিছু ঢুকে গেলে আর বের হয়না। মাথার ভিতর ঘুরপাক খেতে থাকে। মাজেদা খালার মাথায় এখন বিবাহ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আজ হিমুর বিয়ে

হুমায়ূন আহমেদ আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় আছেন এবং তিনি সর্বদাই সেখানে থাকবেন। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস হুমায়ূন আহমেদ সম্বন্ধে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নজরুলের পড়ে হুমায়ূন আহমেদের রচনাবলীর গভীরতা অনেক বেশি। বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের মতো আর কেউ এতটা প্রভাব কোন প্রজন্মের ওপর বিস্তার করতে পেরেছে কিনা আমার জানা নেই। একসময় বাংলাদেশের প্রত্যেক পাঠকের ঘরে যেখানে শুধু ভারতীয় লেখকদের বই থাকতো। শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদের লেখার কারণে তারা দেশের লেখকদের বই পড়া শুরু করেছে। বিশাল একটা পাঠক শ্রেণী তৈরি করতে পেরেছিলেন। এর অন্যতম কারণ তার সহজ সরল প্রাঞ্জল বর্ণনা।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।

ধন্যবাদ @steem-bangladesh এবং @toufiq777 ভাইকে এই টপিকস এর উপর লেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।

ধন্যবাদ
@rupok

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
STEEMKR.COM IS SPONSORED BY
ADVERTISEMENT